ঠাকুরগাঁওয়ে বিজ্ঞান পাগল মানুষ মীর মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন

ঠাকুরগাও প্রতিনিধি :মনসুর আহাম্মেদ

ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ নাম তার মীর মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন বয়স (৯৪) পেশা ও নেশা তার বিজ্ঞান বিষয়ক যাদু প্রর্দশন করা । স্কুলে স্কুলে গিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ দিতে ও বিজ্ঞান মোনস্ক করতে বিজ্ঞান ভিত্তিক নানান ধরনের যাদু প্রর্দশন করতে তার ভাল লাগে ।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর এলাকার ভেড়ভেড়ী মাদরাসায় ও দেবীপুর প্রাইমারীর  শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞান বিষয়ক যাদু প্রর্দশন করতে আসেন তিনি  । সেখানেই পরিচয় হয় ৯৪ বছরের একজন বিজ্ঞান পাগল মানুষের সাথে। বিজ্ঞান কে   কাজে লাগিয়ে যাদু খেলা প্রর্দশন করা এটাই তার হয়ে উঠে একমাত্র পেশা ও নেশা।
কেমন করে যাদু বিদ্যা রপ্ত করলেন  তা জানতে ইচ্ছা প্রকাশ করতেই  আলাপ চারিতায় তিনি যাদু শেখার  গল্প শোনালেন উপস্থিত সবাই কে । বললেন এখন আমাকে সবাই ম্যজিশিয়ান হিসেবেই চেনে । কিন্তু অনেক কষ্ট করে বিদেশ বিভুয়ে ঘুরে যাদু শিখেছেন তিনি ।  প্রাইমারী তে পড়ার সময় রাস্তার ধারে যাদু প্রর্দশন করা দেখে তিনি যাদু শেখার আগ্রহী হয়ে উঠেন । যাদু শিল্পী প্রফেসর মতি লাল কে তার আগ্রহ প্রকাশ করলে যাদু শিল্পী তখন কার সময় যাদু শেখাবেন বলে ১০ টাকা দাবী করেন । এবং তাকে বার্মা যেতে হবে তার সাথে তবেই যাদু শেখা যাবে এমন শর্তদেন  । যাদু শেখার অদম্য ইচ্ছার কারনে  যেই কথা সেই কাজ বাবার ৩ মন ধান ১০ টাকায় বিক্রি করেন ।  ১০ টাকা  যাদু শিল্পীর হাতে তুলে দেন ।  যাদু শিল্পী প্রফেসর মতি লালের  সাথে  যাদু শিখতে বার্মায় চলে যান ।
যাদু বিদ্যা রপ্ত করে ৩ বছর পর দেশে ফেরেন । দেশে এসে    স্কুলে য্াদু প্রর্দশন করতে শুরু করেন  । তিনি প্রথম যাদু প্রদশর্নী করেন ময়মনসিংহ মধুপুর রানী ভবানী হাইস্কুলে এর পর আর থেমে থাকেনি তার যাদু প্রদর্শন। বাংলাদেশের  টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ার যত  স্কুল আছে তিনি প্রায় সব স্কুলে যাদু প্রদর্শন করেছেন জানান তিনি । এখন বিভিন্ন  দিবসে ডাক আসে যাদু প্রদর্শন করার জন্য ।
সালফোরিক এসিড,নাইট্রিক এসিড,ফসপরাস এসিড ,হাইড্রোজেন অক্সাইড,সোডিয়াম ক্লোরাইড,লাফিং গ্যাস,কাঁদানো গ্যাস ইত্যাদি নিয়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের যাদু পরিবেশন করেন ।
খেলা শুরু কারার পর থেকে শিক্ষার্থীদের করতালীতে মাঠজুড়ে আনন্দময় পরিবেশের মাঝে এক পা দু পা কওে চলে  আসেন গ্রামের অনেকেই । সবাই আনন্দ ভোগ করছেন যাদু খেলা দেখে । তার খেলার মধ্যে রয়েছে মরা মাছকে জীবন্ত  করা ,রংগের খেলা, মিষ্টি বানানো , সহ বিজ্ঞান ভিত্তিক ৩৫ রকমের খেলা প্রর্দশন করতে পারেন  ।
তিনি জানান ১৯৭১ সালে মুক্তি যুদ্ধের সময় তিনি ভারতের জলপাইগুড়িতে চলে যান । সেখানেও যাদু খেলা দেখিয়ে দিন কেটেছে তার । যাদু প্রর্দশন করে সকলের সাহায্য নিয়ে এতদিন সময় পার করেছেন তিনি ।
মাহাতাব উদিদন জানান শিশুদের আনন্দ দিতে তাদের  হাসি মুখ দেখলে জীবনের সব কষ্ট ভুলে যাই ।টাকা পয়সা যে যায় দেয় তাতেই খুশি তিনি ।  শিশুরা যেন বিজ্ঞানের দিকে আকৃষ্ট হয় এটা তার  একটা ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র । মাত্র দশম শ্রেনী র্পযন্ত পড়াশুনা করেছেন তিনি ।

সুএ:দেশের কন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *