মাদারীপুরে আ.লীগের দুই গ্রুপের  সংঘর্ষে,৫পুলিশসহ আহত ২০, আটক১২

মাদারীপু প্রতিনিধি: রাকিব হাসান, 

মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের বরাইলবাড়ী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও পেয়ারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খানের সাথে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ দপ্তর সম্পাদক লাভলু তালুকদার গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে এ ঘটনাটি  ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনকে আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার আধিপত্য নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পেয়ারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের সাথে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ দপ্তর সম্পাদক লাভলু তালুকদারের বিরোধ চলে আসছিল।বিগত  সূত্রের রেষ ধরে  গরু ধান খাওয়ার কেন্দ্র করে সোমবার সকালে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ৫ পুলিশ সদস্য ও দুই গ্রুপের আরো প্রায় ২০ জন আহত হয়। পরে পরিন্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। সংঘর্ষে আহতদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালসহ আশপাশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পেয়ারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগে চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ দপ্তর সম্পাদক লাভলু তালুকদার বলেন, মজিবুর খান ও তার ভাইরা এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত থাকে। সামান্য বিষয় নিয়ে এ সংঘর্ষে লিপ্ত হয় সে এবং তার লোকজন। সংঘর্ষে আমার প্রায় ১০ জন আহত হয়েছে।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মিঞা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে পেয়ারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লাভলু তালুকদার ও বর্তমান চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে সকালে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে ৫ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয় অন্তত ২০ জন। তাদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *