মানিকগঞ্জে পিপিই- চিকিৎসকরা পেলেও নার্সরা পাননি নিরাপত্তা  উপকরণ ।  

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি – আল মামুন 
ঝুঁকি নিয়েই সারাদেশের মতো মানিকগঞ্জেও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন ডাক্তার-নার্সরা। রোগীর সেবা নিশ্চিত করতে মানিকগঞ্জের চিকিৎসকরা নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় সব উপকরণই ইতিমধ্যে হাতে পেয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে এমনটাই দাবি মানিকগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. আনোয়ারুল আমিন আকন্দের। তিনি জানান, চাহিদার বেশির ভাগই পেয়েছেন, আরও পাবেন।
সিভিল সার্জন জানান, বর্তমানে পিপিই এসেছে ৩০০টি, গ্লাবস ৯০০ পিস, ফেস মাস্ক ২০০টি, গাউন ১৪৮ পিস, ২৯৬ পিস গগজ এসেছে এবং ইতিমধ্যে এগুলো বিতরণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত ওয়ার্ড বয়রা প্রয়োজনীয় উপকরণ পড়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। অপরদিকে ইনডোরে কর্মরত নার্সদের পিপিই ছিল না।কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে জানা গেলো, ইতিমধ্যেই চিকিৎসা সেবার জন্য প্রয়োজনীয় পিপিই চিকিৎসক ও আউটডোরের নার্সদের দেওয়া হয়েছে। শিশু বিভাগে কর্মরত নার্স রওশনারা আক্তার জানান, কিন্তু আমাদের দেওয়া হয়নি।
দেখা গেছে, জেলা হাসপাতালের শিশু বিভাগ এবং সিসিইউ বিভাগে কর্মরত নার্সদের শরীরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল না। কর্মরত শিশু বিভাগের নার্স দিলরুবা সুলতানা জানান, আমাদের সরকারিভাবে কোনো নিরাপত্তা উপকরণ দেওয়া হয়নি। এভাবে কাজ করতে পরিবারেরও আপত্তি আছে। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই নিজের টাকায় মাস্ক কিনে ব্যবহার করছি।
অপরদিকে সিসিইউ বিভাগের নার্স সোমা আক্তার বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত না করা হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। আমরা সরকারের কাছে সকল নার্সদের জন্য নিরাপত্তা সামগ্রী নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
নার্সিং সুপারভাইজার আনিসুল ইসলাম জানান, আমরা ১৬০ জন নার্স হাসপাতালটিতে কর্মরত। শুধু জরুরি বিভাগ ছাড়া অন্য কোনো নার্সদের নিরাপত্তা সামগ্রী দেওয়া হয়নি। হাসপাতালটির তত্বাবধায়ক আমাদের আশ্বস্ত করেছেন দ্রুত দেওয়া হবে।
হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. এরফান জানান, আমরা সব চিকিৎসকদের নিরাপত্তার সব সামগ্রী দিতে পারিনি। খুব শ্রীঘ্রই আমরা উপকরণগুলো হাতে পাবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *